২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অসম লড়াই

একটা ম্যাচও হারেনি, তবু বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের গল্পটা তাই শুধু ফুটবলের নয়, প্রতিকূলতার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার গল্প।

একটা ম্যাচও হারেনি, তবু বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের গল্পটা তাই শুধু ফুটবলের নয়, প্রতিকূলতার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার গল্প।

গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২, বেলজিয়ামের সঙ্গে ০-০ এবং মিশরের সঙ্গে ১-১ ড্র করে তিন ম্যাচ শেষ করে ইরান। একটিও পরাজয় নেই, তবু মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় জায়গা হয়নি। ফলে হার ছাড়াই শেষ হয়ে যায় তাদের বিশ্বকাপ।

মাঠের বাইরের বাস্তবতাও ছিল আরও কঠিন। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বেস ক্যাম্প করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্য দলগুলো যখন নিশ্চিন্তে নিজেদের ক্যাম্পে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ইরানকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থান করতে হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের আগে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়েছে, আবার ম্যাচ শেষেই ফিরে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ ভ্রমণ, ইমিগ্রেশন ও কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি, ভিসা জটিলতা—সব মিলিয়ে স্বাভাবিক অনুশীলন ও বিশ্রামের সুযোগই পায়নি দলটি। এমনকি কয়েকজন কর্মকর্তা ভিসাও পাননি, আর একজন খেলোয়াড়ের ভিসার মেয়াদ টুর্নামেন্ট চলাকালেই শেষ হয়ে যায়। কোচ আমির ঘালেনোয়েই তাই বলেছিলেন, তার দলই সম্ভবত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বঞ্চিত দল।

মাঠেও ভাগ্য ছিল না তাদের পক্ষে। মিশরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদেহর জালে জড়ানো গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি সঠিক হলেও, সেই এক মুহূর্তেই ভেঙে যায় ইরানের নকআউটে ওঠার স্বপ্ন।

শেষ আশা ছিল অস্ট্রিয়া–আলজেরিয়া ম্যাচে। কিন্তু ৯৬তম মিনিটের এক গোলে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। একটাও ম্যাচ না হেরে, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা উঁচু রেখে লড়াই করা ইরান হয়তো নকআউটে উঠতে পারেনি, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় গল্পগুলোর একটি হয়ে থাকবে তাদের এই বিদায়।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link