১১ বছরের ক্যারিয়ারে মিরপুরে কখনও অর্ধশতক পায়নি লিটন দাস, যেন মিরপুরের সাথে লিটনের ব্যাক্তিগত শত্রুতা, আজও একই দৃশ্য, ৩২তম ওভারে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ৪৮ রানে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরলেন, গ্যালারিতে নেমে এলো ভারী নিরবতা। এত কাছে এসেও আবারও হলো না — এই বেদনা যেন মীরপুরে লিটনের চিরচেনা গল্প।
কিন্তু ক্রিকেট মাঝে মাঝে পুরনো ঋণ শোধ করে দেয়।
৪৮ তম ওভারে মাহেদি আউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুম থেকে আবার বের হলেন লিটন। চোটের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে, ব্যাট হাতে ফিরলেন সেই মীরপুরের পিচেই — যে মীরপুর তাকে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে। আর এবার আর ফিরিয়ে দিতে পারল না। ফিফটি ছাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৭৮ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কা।

লিটনের এই লড়াকু ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে তুলল ২৭৪/৫। দলের হয়ে তৌহিদ হৃদয় করেছেন ৮৩, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে। কিন্তু দিনের গল্পটা লিটনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকে এই মাঠে বারবার এসেছেন, বারবার ফিরে গেছেন অপূর্ণ হয়ে। ওডিআই ক্যারিয়ারে ৫টি সেঞ্চুরি, ১২টি ফিফটি থাকলেও মীরপুরে বড় ইনিংস ছিল যেন নিষিদ্ধ। আজ ১১ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান হলো — সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে, সবচেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে।
রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে গিয়ে, আবার নেমে ফিফটি পেরিয়ে যাওয়া — এই গল্প শুধু স্কোরকার্ডে থাকবে না। এই গল্প থাকবে মীরপুরের স্মৃতিতে।












