টেস্ট হারের বিশ্বরেকর্ড

প্রকৃত ক্রিকেট কিংবা ক্রিকেটের আসল বা সবচেয়ে পুরনো ফরম্যাট হলো টেস্ট ক্রিকেট। বলা হয় টেস্টের মাধ্যমেই একজন ক্রিকেটারের টেম্পারমেন্ট, স্কিল আর সামর্থ্য যাচাই করা হয়। পাঁচ দিনের এই লড়াইয়ে অধিনায়কের দায়িত্বটাও সবচেয়ে বেশি। টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হিসেবে অনেকেই আছেন। তেমনি অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পরাজিত হওয়া ক্রিকেটারও আছেন।

অধিনায়ক হিসেবে সাদা পোশাকে সবচেয়ে বেশি হারের রেকর্ডে থাকাদের তালিকাটা বেশ চমকপ্রদ। কারা আছেন সেই তালিকায়? চলুন, দেরি না করে শুরু করি।

  • জো রুট (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডের হয়ে একই সাথে সর্বোচ্চ টেস্ট জয় ও টেস্টে পরাজয়ের রেকর্ডটা অধিনায়ক জো রুটের দখলে! সাদা পোশাকে ইংলিশদের সময়টা অবশ্য মোটেও ভাল যাচ্ছে না। তাই স্বস্তিতে নেই অধিনায়ক জো রুটও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১-০ তে সিরিজ হারের মধ্যে দিয়ে এক লজ্জাজনক রেকর্ডে উঠে এসেছেন রুট।

অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট হারের রেকর্ডে ব্রায়ান লারার সাথে যৌথভাবে তিনে অবস্থান করছেন তিনি। এখন অবধি ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৪ টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন রুট। আর এই ৬৪ টেস্টে জয় পেয়েছেন ২৭টিতে; যা ইংল্যান্ডের হয়ে যেকোন অধিনায়কের সবচেয়ে বেশি টেস্ট জয়ের রেকর্ড। অপরদিকে, জো রুটের অধীনে ২৬ টেস্টে হেরেছে ইংলিশরা।

  • ব্রায়ান লারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় তিনি সবার উপরের দিকে থাকবেন অনায়াসে। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ তাঁরই দখলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা অধিনায়ক হিসেবে অবশ্য সফল ছিলেন না। অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৭ টেস্টে।

আর এই ৪৭ টেস্টে জয়ের মুখ দেখেছেন মাত্র ১০ টেস্টে! ২৬ টেস্টে তাঁর অধীনে হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ক্যারিবীয়রা। ক্রিকেট মাঠের এই কিংবদন্তি তারকা ব্যাটার হিসেবে সেরাদের সেরা হলেও অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে নিতে পারেননি সফলতমদের কাতারে।

  • স্টিফেন ফ্লেমিং (নিউজিল্যান্ড)

নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসেবেই তিনি বিবেচিত হন। ২০০০ সালে ফ্লেমিংয়ের অধীনেই আইসিসি নকআউট ট্রফির শিরোপা জেতে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে একমাত্র শিরোপাও সেটি! ২০০৫ সালে ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেন ফ্লেমিং।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে অন্যতম সেরা অধিনায়ক ছিলেন। সাদা পোশাকে অধিনায়কত্ব করেছেন ৮০ টেস্টে। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ২৮ টেস্টে। বাকি ৫৮ টেস্টের ২৭টিতে তাঁর অধীনে হেরেছে ব্ল্যাকক্যাপসরা। অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ হারের রেকর্ডে দ্বিতীয়তে আছেন সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।

  • গ্রায়েম স্মিথ (দক্ষিণ আফ্রিকা)

টেস্ট ইতিহাসের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন একশোর বেশি ম্যাচ। টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা ক্রিকেটারও তিনি। বলা হয় সাদা পোশাকে সবচেয়ে সফল অধিনায়কের একজন তিনি। অবশ্য পরিংখ্যানও তাই বলে। স্মিথের অধীনের দক্ষিণ আফ্রিকা তখন সাদা পোশাকের শীর্ষ দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১০৯ টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন স্মিথ। এই ১০৯ টেস্টে তার অধীনে প্রোটিয়ারা জয় পেয়েছে ৫৩ ম্যাচে! অপরদিকে, হেরেছে ২৯ ম্যাচে। সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করায় স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি হারের রেকর্ডটাও স্মিথের দখলে থাকার কথা। যদিও পরিসংখ্যান বিবেচনায় তাঁর অধীনেই প্রোটিয়ারা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা অবস্থানে ছিল।

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link