কি করলে জিতবে পাকিস্তান!

জিততে চাই বললেই তো আর জয়লাভ করা যায় না। সে জন্যে পাকিস্তান দলে কিছু পরিবর্তন ভীষণ প্রয়োজন। প্রথমত ওপেনিং পজিশনে হাসান নাওয়াজের পরিবর্তে ওমাইর ইউসুফকে জায়গা করে দেওয়া উচিত। কেননা হাসানের চাইতে ওমাইর আরও বেশি টেকনিকালি সলিড একজন ব্যাটার।

জিততেই ভুলে গেছে পাকিস্তান। ওয়ানডেতে হারে, টি-টোয়েন্টিতে হারে। পরাজয়ই তাদের সঙ্গী। ফাইটব্যাক করবার বিন্দুমাত্র রসদও কি তাদের মধ্যে আছে বাকি? এমন প্রশ্ন তোলাও যায় চাইলে। কেননা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই যে পাকিস্তান হয়েছে ধরাশায়ী। তৃতীয় ম্যাচটা জেতা চাই, সিরিজটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে।

কিন্তু জিততে চাই বললেই তো আর জয়লাভ করা যায় না। সে জন্যে পাকিস্তান দলে কিছু পরিবর্তন ভীষণ প্রয়োজন। প্রথমত ওপেনিং পজিশনে হাসান নাওয়াজের পরিবর্তে ওমাইর ইউসুফকে জায়গা করে দেওয়া উচিত। কেননা হাসানের চাইতে ওমাইর আরও বেশি টেকনিকালি সলিড একজন ব্যাটার।

এমনকি পরিসংখ্যানের দিক থেকেও হাসানের তুলনা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এগিয়ে ওমাইর। ৩৮ ইনিংসে ১৩১ স্ট্রাইকরেটে ১০২৪ রান করেছেন ওমাইর। গড় তার ৩৩ এর একটু বেশি। অন্যদিকে হাসান নওয়াজ ব্যাট করেছেন ১২৯ এর একটু বেশি স্ট্রাইকরেটে। ২৩ ইনিংসে ৪৯২ রান করেছেন তিনি মাত্র ২১.৩৯ গড়ে। পরিসংখ্যান, সাথে পারফরমেন্স দু’টোই আপাতত রায় দিচ্ছে ওমাইর ইউসুফের পক্ষে।

এছাড়া উসমান খানকেও একাদশে সংযুক্ত করা হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেক্ষেত্রে সালমান আলি আঘাকে ছেড়ে দিতে হবে তিন নম্বর স্থান। কেননা সেখানটায় দূর্দান্ত ব্যাটিং করতে জানেন উসমান। ৯৮ গড়ে ৩৯২ রান করেছেন তিনি টি-টোয়েন্টিতে তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে। এই সময়ে তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৬১.৩।

অন্যদিকে তিন নম্বরে সালমানের ব্যাটিং গড় মাত্র ২১.৫, স্ট্রাইকরেট স্রেফ ১১৫.৮। যদিও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে দারুণ একটা ইনিংস খেলেছিলেন সালমান। তবুও পরিসংখ্যান বলছে চার নম্বর সালমানের জন্যে যথার্থ ব্যাটিং স্থান। এই পজিশনে ১৪২ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়েছেন তিনি।

ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বোলিং আক্রমণেও বদল আনতে হবে পাকিস্তানকে। প্রথমেই বাদ দিতে হবে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। এতটা নিষ্ফলা শাহিনকে স্রেফ নামের ভারে একাদশে সুযোগ দেওয়া অনুচিত কাজ। দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেও কোন উইকেট শিকার করতে পারেননি তিনি। ঈগল তকমার শাহিন এখন যেন এক পাখা ভাঙা কবুতর।

তাছাড়া বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে আবরারকেও একাদশে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে পাকিস্তানকে। নতুবা আরও একটি সিরিজ পরাজয় হয়ত নিশ্চিত হয়ে যাবে খুব সহজেই। এমন নয় যে একাদশে বদল আনলেই জয় চলে আসবে অনায়াসে। তবে চেষ্টা করতে নিশ্চয়ই বিশেষ ক্ষতি নেই।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link