ফুটবল মহাযজ্ঞের ২০২৬ আসরে এবার এক ভিন্ন প্রাপ্তির স্বাদ পেল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী আয়োজনে নোরা ফাতেহীর সঙ্গে মঞ্চে যখন সুরের জাদুকর হিসেবে হাজির হলেন সঞ্জয় দেব, তখন পুরো স্টেডিয়ামের সঙ্গে আপ্লুত হয়ে উঠল পুরো বাংলাদেশ। একজন বাংলাদেশি তরুণ হিসেবে বিশ্বমঞ্চের আলো কাড়লেন তিনি।
সঞ্জয়ের উপস্থিতি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ তিনি বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে। তাঁর পরনে ছিল একটি বিশেষ নকশার পোশাক, যেখানে সবুজ হাতায় জ্বলজ্বল করছিল লাল বৃত্ত। ঠিক আমাদের পতাকার আদলে।
পোশাকের হাতায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছাপ যেন তাঁর ভেতরে থাকা সেই অদম্য বাংলাদেশি সত্তাকেই ফুটিয়ে তুলছিল। পোশাকের এই শৈল্পিক উপস্থাপনা বিশ্বমঞ্চে আমাদের জাতীয় চেতনারই এক অনন্য বহি:প্রকাশ।

সঞ্জয়ের শেকড় ঢাকায় হলেও, বেড়ে উঠেছেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। সংগীতের লড়াইয়ে তিনি বৈশ্বিক। গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে বিচরণ থাকলেও নিজের শেকড়ের প্রতি তাঁর টান প্রবল। এমনকি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫ এর থিম সং-এও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। এমনকি বলিউডের শ্রেয়া ঘোষালের মতো শিল্পীর সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের যোগ্যতার জানান দিয়েছেন।
এই দীর্ঘ যাত্রার মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চ। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল প্রমোশনাল ট্র্যাক ‘সির সির’ কম্পোজ করেছেন এই তরুণ। ফ্রেঞ্চ হিপহপ আর্টিস্ট ভেজেড্রিয়ম ও নোরা ফাতেহীর সঙ্গে যখন তিনি তার সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দিলেন, তখন গর্বে উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের নাম।
বিশ্বমঞ্চে সুরের জাদুকর হিসেবে সঞ্জয় দেব এখন কেবল একটি নাম নয়, বরং অগণিত তরুণের অনুপ্রেরণা। আগামীর দিনগুলোতে তিনি সুরের এই ধারায় বাংলাদেশকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবেন – এমনটাই প্রত্যাশা সবার।












