টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে শান্তই সেরা

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত, বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক। অন্তত জয়ের শতকরা হিসেব সে কথাই বলে। স্রেফ ছোট দলের বিপক্ষেই তার অধীনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, মোটেও তা নয়। অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও লড়াই করেছে, জয়ের দেখা পেয়েছে, ড্রও করেছে বাংলাদেশ।

চলতি বছরের জুনে শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট সিরিজের পর টেস্টের অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ধারণা ছিল তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক থাকলে, দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, সে কারণেই মূলত তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড থেকে আশ্বস্ত হওয়ার পর তিনি আয়ারল্যান্ড সিরিজে আবারও ফিরেছেন নেতার বেশে।

এরপরই তিনি দলকে নেতৃত্ব দিলেন, চতুর্থবারের মত ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বাদ এনে দিয়েছেন তিনি। নিজেও হাঁকিয়েছেন শতক। অধিনায়ক হিসেবে এ নিয়ে মোট পাঁচটি ম্যাচ জিতেছেন শান্ত। যার দুইটি ম্যাচ তিনি ও তার দল জিতেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে, পাকিস্তানের মাটিতে।

এছাড়া ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারানো ছাড়াও, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ- শান্তর অধীনে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি টেস্ট ড্র করেছে তাদেরই ঘরের মাঠে গলের সমুদ্র পাড়ে। তাতে করে ৩৩.৩৩ শতাংশ ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। যা বাংলাদেশি অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এখন অবধি ১৫ ম্যাচে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৩৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তার আমলে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক জয়ের দেখা পেয়েছে। যার মধ্যে মিরপুরে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত পরাশক্তিকে পরাস্ত করার রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ।

এছাড়া, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জয় পেয়েছিল মুশফিকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। তবুও জয়ের শতকরা হিসেবে মুশফিক পিছিয়ে আছেন। কেননা ৩৪ ম্যাচের মধ্যে স্রেফ ৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেদিক বিবেচনায় স্রেফ ২০.৫৮ শতাংশ জয়ের রেকর্ড রয়েছে মুশফিকের ঝুলিতে। নূন্যতম দশ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে জয়ের শতকরা হিসেবে তিনি আছেন দুই নম্বরে।

মুশফিকের উপরে আছেন সাকিব আল হাসান। ১৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া সাকিব, জয় পেয়েছেন চারটি। যার শতকরা হিসেব ২১.০৫। অতএব অধিনায়কত্বের রেকর্ডে কিংবদন্তি সাকিব ও মুশফিকের মত খেলোয়াড়দেও পেছনে ফেলেছেন শান্ত। যদিও যাত্রাটা এখানেই হচ্ছে না সমাপ্ত।

টেস্টে বাংলাদেশ বরাবরই দ্বিতীয় সারির দল। ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলগুলোর সাথে নিয়মিত খেলার সুযোগ মেলে না বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ম্যাচের পরিমাণ বাড়লেও, সংখ্যাটা ক্রিকেট মোড়লদের চাইতে ঢের পিছিয়ে। সে কারণেই বাংলাদেশের উন্নতি বেশ ধীরলয়ের এক প্রক্রিয়া। তবে সেই প্রক্রিয়ার যথাযথ নেতৃত্ব হতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্তই।

কেননা অধিনায়ক হিসেবে তার পারফরমেন্সও বেশ ভাল। চারটি সেঞ্চুরি তিনি তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। এছাড়াও রয়েছে দুইটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসও। অধিনায়ক হিসেবে ৩৮ এর একটু বেশি গড়ে রান তুলতে পেরেছেন তিনি। অতএব তার উপর ভরসা আরেকটু বাড়ানো প্রয়োজন। কেবল তবেই হয়ত, টেস্টে বাংলাদেশের জয় হতে পারে নিয়মিত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link