ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং সবুজ গালিচায় রচিত এক একটি মহাকাব্য। আর এই মহাকাব্যের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হলো ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালের সেই শুরু থেকে আজ অবধি বিশ্বমঞ্চে দেখা গেছে বহু কিংবদন্তি দল, যারা তাদের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করেছে কোটি প্রাণ। ইতিহাসের নিরিখে বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা দশটি দলকে নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
- ব্রাজিল (১৯৭০)

ফুটবল যদি শিল্প হয়, তবে ১৯৭০ এর ব্রাজিল ছিল সেই শিল্পের শ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী। পেলে, জারজিনহো, রিভেলিনো আর কার্লোস আলবার্তোর সেই দলটিকে বলা হয় ইতিহাসের সবচেয়ে নান্দনিক ফুটবল শক্তি। মেক্সিকোর তপ্ত দুপুরে তারা প্রতিটি ম্যাচ জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- জার্মানি (১৯৭৪)

ফুটবল মাঠে শৃঙ্খলা আর দক্ষতার মূর্ত প্রতীক ছিল ১৯৭৪ এর পশ্চিম জার্মানি। ‘কাইজার’ খ্যাত ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার আর গোলমেশিন গার্ড মুলারের হাত ধরে তারা নিজেদের মাটিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে।
- ইতালি (১৯৮২)

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ইতালি ছিল এক রহস্য। প্রথম রাউন্ডে টানা তিন ড্র করে ধুঁকতে ধুঁকতে পরের রাউন্ডে ওঠা দলটিই হঠাৎ জ্বলে ওঠে। পাওলো রসির একক নৈপুণ্যে তারা সে সময়ের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজেদের করে নেয়।
- ব্রাজিল (১৯৫৮)

১৯৫০ এর মারাকানা ট্র্যাজেডির ক্ষত শুকিয়ে ব্রাজিল যখন ১৯৫৮ তে ইউরোপের মাটিতে পা রাখে, বিশ্ব দেখেছিল এক নতুন নক্ষত্রকে। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর তথা পেলের বিস্ময়কর প্রতিভায় ভর করে ব্রাজিল প্রথমবারের মতো বিশ্বজয় করে।
- স্পেন (২০১০)

স্প্যানিশ ফুটবলের সোনালী প্রজন্মের সেই রূপকথা শুরু হয়েছিল ইউরো ২০০৮ এ, যা পূর্ণতা পায় জোহানেসবার্গের ফাইনালে। পাসিং ফুটবলের চরম উৎকর্ষ বা ‘টিকি-টাকা’র মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দিয়েছিল আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার স্পেন।
- হাঙ্গেরি (১৯৫৪)

পুসকাস ও ককসিসের হাঙ্গেরিকে বলা হয় ‘ম্যাজিক্যাল ম্যাগিয়ার্স’। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত টানা ৫০টি ম্যাচে তারা হারেনি মাত্র একটি ছাড়া। আর দুর্ভাগ্যবশত সেটিই ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল।
- আর্জেন্টিনা (১৯৮৬)

১৯৮৬ বিশ্বকাপ মানেই যেন একার হাতে একটি জাতির স্বপ্নপূরণ। দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অজেয় রূপ আজীবন ফুটবল প্রেমীদের চোখে লেগে থাকবে।
- নেদারল্যান্ডস (১৯৭৪)

ফুটবল ইতিহাসে রোমান্টিকতার অন্য নাম ১৯৭৪ এর ডাচ দল। জোহান ক্রুইফের নেতৃত্বে তারা এমন এক ফুটবল দর্শনের জন্ম দিয়েছিল যেখানে ডিফেন্ডার থেকে স্ট্রাইকার – সবাই সব পজিশনে খেলতে পারতেন।
- জার্মানি (২০১৪)

ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করা! এমনটা কি কেউ কল্পনা করেছিল? ২০১৪ সালে জোয়াকিম লোর জার্মানি দেখিয়েছিল দলগত সংহতির ক্ষমতা। মেসির আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে হারিয়ে তারা প্রমাণ করেছিল, সঠিক পরিকল্পনা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন সম্ভব।











