বেকহ্যামের স্পাইক, রোনালদোর সেই টাক মাথায় এক গুচ্ছ চুল। নাকি রবার্তো ব্যাজ্জিওর পনিটেইল? ফুটবল বিশ্বকাপ মানে কেবল পায়ের ফুটবল নয়, চোখ আটকে যায় বিচিত্র সব হেয়ারস্টাইলেও।
ফুটবলারদের পায়ের জাদুতে যেমন ইতিহাস লেখা হয়, তেমনি তাদের কেশবিন্যাসের বৈচিত্র্য জন্ম দেয় নতুন কোনো বিপ্লবের। মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে এই ব্যক্তিগত স্টাইলগুলো গ্যালারি থেকে রাজপথ পর্যন্ত হয়ে ওঠে এক একটি অমর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।
ফুটবল আর ফ্যাশন যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। কখনো চিরচেনা কোনো ধ্রুপদী ছাঁট ফিরে আসে নতুনের আবরণে, আবার কখনো কোনো মহাতারকা নিয়ে আসেন একেবারেই অদ্ভুতুড়ে কোনো ট্রেন্ড। লিওনার্দো কুয়েলার কিংবা কার্লোস ভালদেরামার সেই ঢেউ খেলানো ঝোপালো চুল আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান। তাদের সেই অনন্য উপস্থিতি কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে এক একটি যুগের পরিচয়বাহী চিহ্ন।

ইতালির কিংবদন্তি রবার্তো বাজ্জিওর কথা না বললেই নয়। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে তাঁর সেই বিখ্যাত ‘ডিভাইন পনিটেল’ বা ঘোড়ার লেজের মতো চুল ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বাজ্জিওর শৈল্পিক ফুটবলের মতোই তাঁর চুলের সেই ছন্দময় দুলুনি দর্শকদের মোহিত করেছিল। অন্যদিকে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে রোমানিয়া দলের সব সদস্যের সোনালি রঙের চুলের সেই যৌথ অবয়ব ছিল সংহতির এক অনন্য প্রতীক, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক বর্ণিল মুহূর্ত হয়ে আছে।
নতুন সহস্রাব্দে এসে ডেভিড বেকহ্যাম ফুটবলারদের ফ্যাশন আইকন হিসেবে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। তাঁর একেক বিশ্বকাপের একেক রূপ, বিশেষ করে ২০০২ সালের সেই মোহাক ছাঁট তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল।

ঠিক একই সময়ে জাপানের কাজুয়ুকি তোদা তাঁর চুলে লাল রঙের ছোঁয়া দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছিলেন এক আধুনিক স্পোর্টিং লুক, যা সে সময়ের এশিয়ান ফ্যাশন ট্রেন্ডকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও অদ্ভুতুড়ে চুলের স্টাইলটি সম্ভবত এসেছিল ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর কাছ থেকে।
২০০২ সালের ফাইনালে তাঁর সেই ‘সেমি-সার্কেল’ বা কপালের সামনের দিকের সামান্য চুল রাখা স্টাইলটি দেখে পুরো বিশ্ব তাজ্জব বনে গিয়েছিল। যদিও তিনি এটি করেছিলেন তাঁর চোটের খবর থেকে সংবাদমাধ্যমের নজর সরাতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অদ্ভুত স্টাইলটিই হয়ে ওঠে বিজয়ের প্রতীক। সত্যিই, সেই স্টাইল দিয়েই বিশ্বকাপের শিরোপা হাতে তুলেছিলেন রোনালদো।
আধুনিক ফুটবলেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ওয়েস্টন ম্যাককেনি বা ক্লিন্ট ম্যাথিসের মতো খেলোয়াড়রা চুলের রঙ আর জ্যামিতিক ছাঁটের মাধ্যমে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলছেন।

মাঠ যখন গ্যালারিতে পরিণত হয়, তখন খেলোয়াড়দের এই কেশবিন্যাস হয়ে ওঠে তাদের আত্মপ্রকাশের ভাষা। খেলা শেষে ট্রফি হয়তো একটি দেশ নিয়ে যায়, কিন্তু ফুটবলারদের সেট করে দেওয়া সেই ফ্যাশন ট্রেন্ডগুলো সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে থেকে যায় যুগ যুগ ধরে।










