সংখ্যাটা এক তবুও শচীন-বিরাটের বিস্তর ফারাক

মাইলফলক ছোঁয়ার একটা আক্ষেপ রেখেই লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় বললেন বিরাট কোহলি। ১২৩ টেস্ট ম্যাচ খেলেই থেমে গেলেন, তুলে রাখলেন সাদা জার্সিটা। তবে ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের উত্তরসূরি হিসেবে কতটুকু কাছে যেতে পেরেছেন কোহলি? ১২৩ ম্যাচ শেষে দুজনের পরিসংখ্যানের পাতা ঘুরে আসা যাক।

ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের উত্তরসূরি হিসেবে কতটুকু কাছে যেতে পেরেছেন কোহলি? ১২৩ টেস্ট ম্যাচ খেলেই থেমে গেলেন বিরাট, তুলে রাখলেন সাদা জার্সিটা। ১২৩ ম্যাচ শেষে দুই কিংবদন্তির পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলেই হয়ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

৩৬ বছর বয়সী কোহলি ১২৩ টেস্টে ভারতের ব্যাট হাতে সংগ্রহ করেছেন ৯,২৩১ রান — গড় ৪৬.৮৫। করেছেন ৩০টি সেঞ্চুরি ও ৩১টি হাফ সেঞ্চুরি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসময় ছিলেন টেস্ট ব্যাটিংয়ের শীর্ষে। তবে শেষ কয়েক বছরে ব্যাটে পড়েছে খরা, বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে।

তবে ক্যারিয়ার জুড়ে গড়েছেন অসাধারণ সব রেকর্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১,৪০৮ রান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২,২৩২ রান এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১,৯৯১ রান — সবই চোখে পড়ার মতো। কোহলির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ইনিংসটি ছিল অপরাজিত ২৫৪, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, পুনেতে। ১২৩ টেস্ট শেষে তাঁর ডাবল সেঞ্চুরি সংখ্যা সাতটি — যা শচীন টেন্ডুলকারের থেকেও বেশি। টেন্ডুলকারের ডাবল সেঞ্চুরি ছিল চারটি।

তবে ১২৩টি টেস্ট শেষে কোহলির রান ৯,২৩১ হলেও টেন্ডুলকারের ছিল ১০,১৩৪। গড়ের দিক থেকেও এগিয়ে তিনি— ৫৭.২৫ যেখানে কোহলির ৪৬.৮৫। সেঞ্চুরিতেও এগিয়ে ছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার, তাঁর ছিল ৩৪টি শতক।

১২৩টি টেস্ট খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলের বিপক্ষে দুজনের রেকর্ডই ছিল ঈর্ষণীয়। টেন্ডুলকার ৩৯টি ম্যাচে ৩,২৩৭ রান করেছেন ৫৩.০৬ গড়ে, যার মধ্যে ছিল ১২টি সেঞ্চুরি ও ১১টি ফিফটি।

অন্যদিকে বিরাট কোহলি ৪৮ ম্যাচে করেছেন ৩,৭৮১ রান, গড় ৪১.৫৪। নামের পাশে রয়েছে ১২টি সেঞ্চুরি এবং ১৪টি ফিফটি। রান কিংবা গড়ের হিসেবে এখানেও এগিয়ে টেন্ডুলকার।

তবে জয়ের ম্যাচগুলোতে পারফরম্যান্সে কোনো কমতি রাখেননি কোহলি। ভারত এ সময়ে ৬২টি টেস্ট ম্যাচ জিতেছে, তার মধ্যে কোহলির অবদান ৪,৭৪৬ রান — গড় ৫১.৫৮। ঘরের মাঠে এই গড় ছিল প্রায় ৬০।

অন্যদিকে টেন্ডুলকারের সময়ে জেতা ৩৮ ম্যাচে তাঁর অবদান ছিল ৩,২৯৩ রান, তবে ৬৭.২০ গড় নিয়ে এখানেও এগিয়ে তিনি।

পুরো ক্যারিয়ারে শচীন খেলেছেন ২০০টি টেস্ট, নামের পাশে ১৫,৯২১ রানের বিরল উচ্চতা। তবে কোহলি অনেকটা আগে ভাগেই বিদায় বলে দিয়ে থামলেন মাত্র ১২৩টি টেস্ট খেলে।

পরিস্থিতি কিংবা পরিসংখ্যানের মানদণ্ড বাদ দিলে ভারতের ক্রিকেটে দুজনেই উজ্জ্বলতম নাম। টেন্ডুলকার হয়তো সময়কে বসে নিয়ে ক্যারিয়ারকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন, তবে কোহলি তা পারেননি।

সামনে দশ হাজার রানের মাইলফলক থাকলেও ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছেটা জাগেনি আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই তারকার। তবে ক্রিকেটের ময়দানে যে প্রেম তাঁরা সৃষ্টি করেছেন ব্যাটের মোহতে, তা হয়তো ক্রিকেটপ্রেমীরা আজীবন মনে রাখতে বাধ্য হবে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link