আর্জেন্টিনা জিতল যেখানে!

ভাবুন তো, যদি সেই স্লাইডিং ব্লকটা ব্যর্থ হতো? যদি বল নিয়ে বেরিয়ে যেত মিশর? তাহলে হয়তো যোগ করা সময়েই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যেত মিশর। এরপর আর আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর সময় থাকত না।

একেবারে ডেথ জোন। স্কোরবোর্ডে তখন ২-২। ঘড়ির কাঁটা নব্বই মিনিট ছুঁয়ে ফেলেছে। ম্যাচটা এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে আর ভুলের সুযোগ নেই। এই সময়েই মিশর যেন মৃত্যুদূতের বেশে ছুটে এলো। মুহূর্তের মধ্যে গড়ে উঠল চার বনাম তিনের পাল্টা আক্রমণ। পেছনে ছুটছেন আর্জেন্টিনার ক্লান্ত ডিফেন্ডাররা। সব যেন থমকে গেল। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে যাবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ঠিক তখনই আবির্ভাব ঘটল লিয়ান্দ্রো পারেদেসের। একাই রুখে দিলেন বলটাকে, আটকে দিলেন মিশরের আক্রমণ, আর ওটাই মূলত আর্জেন্টিনার ভাগ্যনির্ধারণী মুহূর্ত হয়ে দাঁড়াল।

ফুটবলে অনেক সময় একটি ট্যাকলের মূল্য একটি গোলের চেয়েও বেশি হয়। কারণ গোল করার সুযোগ তো পরে আসে, কিন্তু প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোল ঠেকানো যায় না বারবার। পারেদেস সেটাই করেছেন। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন আর্জেন্টিনার শেষ প্রাচীর।

ভাবুন তো, যদি সেই স্লাইডিং ব্লকটা ব্যর্থ হতো? যদি বল নিয়ে বেরিয়ে যেত মিশর? তাহলে হয়তো যোগ করা সময়েই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যেত মিশর। এরপর আর আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর সময় থাকত না।

পারেদেস আক্রমণ থামালেন। আর্জেন্টিনা আবার বলের নিয়ন্ত্রণ নিল। তারপর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এলো সেই প্রতীক্ষিত আঘাত। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা বলে এনজো ফার্নান্দেজের হেড। জালে বল জড়াতেই বিস্ফোরিত হলো স্টেডিয়াম। ২-২ থেকে ৩-২। মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে এসে বেঁচে উঠল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

হাইলাইটসে থাকবে এনজো, রোমেরোর গোল, মেসির জাদুকরী কীর্তি। সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় থাকবে অবিশ্বাস্য কামব্যাকের গল্প। কিন্তু এতসব হতো না, যদি না লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঢাল হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি যে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বাঁচিয়ে দিয়েছেন একটি স্লাইডিং ব্লকে আক্রমণ রুখে দিয়ে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link