হামজা চৌধুরির অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশের ফুটবলে লেগেছে নব জোয়ার। যাদের সাথে ফুটবলের সম্পৃক্ততা খুব সামান্যই তারাও হয়ত হামজার কাছ থেকে রাখছেন প্রত্যাশা। তবে হামজার উপর প্রত্যাশা করার আগে জানা প্রয়োজন যে তিনি ঠিক কি ডেলিভার করবেন দলের জন্যে।
হামজা ভারতের বিপক্ষে নেমেই গোল বন্যার সূত্রপাত ঘটাবেন না। তিনি গোল করানোর উৎসবও শুরু করবেন না। বরং তিনি গোটা দলকে একটা ভারসাম্য দেবেন। দলের কৌশল বাস্তবায়ন করবেন তিনি। তার অবদান হয়ত খালি চোখে ধরাও পড়বে না। অনেকটা স্পেন ও বার্সেলোনার সার্জিও বুস্কেটসের মত।
মনে হয়ে এক দীর্ঘকায় দানব স্রেফ দাঁড়িয়ে আছেন মাঝমাঠে। তিনি কিছুই করছেন না। কিন্তু ফুটবল মাঠে সেই কিছু না করা খেলোয়াড়টাই নিরবে-নিভৃতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে যায়। হামজাও ঠিক সে কাজটাই করবেন। তিনি প্লে-মেকার নন। আবার তিনি ডেস্ট্রয়ারও নন।

তিনি আক্রমণে সময় পাসিং লিংক খুঁজে বের করবেন। খালি স্পেসে নিজেকে নিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে টেনে আনবেন, যেন আক্রমণে জন্যে জায়গা তৈরি হয়, বাংলাদেশি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা সেই জায়গায় মুক্তভাবে নিজের শৈলি দেখানোর সুযোগ পায়।
এভাবেই তিনি প্রতি আক্রমণের সময় প্রতিপক্ষের জন্যে পাসিং লিংকের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাড়াবেন। তিনি বাংলাদেশের রক্ষণের জন্যে ঢাল হয়ে দাড়াবেন। প্রতিপক্ষ যেন বাংলাদেশের রক্ষণে কোন ফাঁকা স্থান খুঁজে না পায়, এবং রক্ষণের কোন খেলোয়াড়কে যেন নিজের লাইন ছেড়ে অনেকটা উপরে উঠে আসতে না হয়- সে সহয়তাটুকু করবেন হামজা চৌধুরি।
অতএব যারা প্রত্যাশার একটা বিশাল ঝুলি খুলে বসে ছিলেন- তারা বরং বাস্তবতা মেনে নিন। হামজার পায়ে গোলের দুয়ার লণ্ডভণ্ড হবে না। তিনি সূক্ষ্ম পাসে হয়ত প্রতিপক্ষের রক্ষণ দূর্গে ফাটল ধরাবেন। কিন্তু একাই তিনি ম্যাচ জেতাবেন না। মাটিতে পা রাখা তাই সর্বোত্তম।












