হুট করে যেন দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। যে দ্বৈরথের আদুরে নাম ‘নাগিন ডার্বি’, যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিদাহাস থেকে এশিয়া কাপে রক্ত গরম করে তুলেছে—সেই বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার রেষারেষি হঠাৎই অদৃশ্য।
কোনো এক সকালে দেখা গেল, গোটা বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার হয়ে গলা ফাটাচ্ছে। বাঘেরা গলা মিলিয়েছে সিংহের গর্জনে। কারণ, এবার বাংলাদেশের সুপার ফোরের সমীকরণ আটকে আছে শ্রীলঙ্কার একটা জয়ের দূরত্বে।
এ দৃশ্য এতটাই অচেনা যে খোদ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডও বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে লঙ্কান বোর্ডের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে যখন ম্যাচডে পোস্টার ঝুলল, মুহূর্তে ভরে গেল ৯ হাজার কমেন্টে।

আর তার প্রায় সবকটাই বাংলাদেশিদের—‘Come on Lankan Lions!’ পতাকা দুই দেশের, পাশে হ্যান্ডশেক ইমোজি। যেন ক্রিকেট মাঠের উত্তেজনা ছাপিয়ে এক অদৃশ্য সেতু তৈরি হয়ে গেছে সমর্থকদের মনে।
সমীকরণ সহজ। শ্রীলঙ্কা যদি হারায় আফগানিস্তানকে, তবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দুই দলই জায়গা পাবে সুপার ফোরে। হারলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে। তাই ১৮ কোটি বাংলাদেশির কণ্ঠস্বর আজ শ্রীলঙ্কার জয়ে বাঁধা।
এখানেই শেষ নয়, স্যোশাল মিডিয়ায় যেকোনো ক্রিকেট প্রেমী বাংলাদেশির প্রোফাইলে এবার জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। কারও প্রোফাইলে পতাকা, কেউ এআই দিয়ে শরীরে চাপাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার জার্সি। সবার চাওয়া একটাই শ্রীলঙ্কার জয়। আগের দিন দাসুন শানাকাও বলেছেন, বাংলাদেশকে জয় উপহার দিতে চায় শ্রীলঙ্কা।

অথচ, এক সপ্তাহ আগেও এই লঙ্কানরাই তো বলে কয়ে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। এই দুই দলের লড়াই মানেই অন্য রকম বিদ্বেষ, ঠাট্টা-তামাশা, চোখ রাঙানি। ক্রিকেট মাঠে এই দ্বৈরথ যেন ছোটখাটো যুদ্ধ। অথচ সুপার ফোরের অঙ্ক এমনভাবে মিশিয়েছে দুই দেশকে যে, মনে হচ্ছে সত্যিই বাঘ আর সিংহ একই ঘাটে জল খাচ্ছে।
এই জন্যই হয়তো বলা হয়—ক্রিকেট কেবল খেলা নয়। এর ভেতরে আছে সমীকরণ, আবেগ, এমনকি রাজনীতির চেয়েও বড় অদৃশ্য টানাপোড়েন। আজকের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রেক্ষাপটই তার প্রমাণ। প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও একে অপরের ভরসা হয়ে দাঁড়ানো—এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য, এটাই খেলার বাইরে খেলার গল্প।










