অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের বাজবল তত্ত্ব ধ্বংসের নেপথ্য গল্প

নির্ভীক ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিল বাজবল। বিনোদন, আগ্রাসন আর ভয়হীন মানসিকতার যে দর্শন ইংল্যান্ড বিগত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা কাজের সময় এসে যেন নিজের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করল। শত সহস্র পরিকল্পনার পরও ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায় মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই। 

নির্ভীক ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিল বাজবল। বিনোদন, আগ্রাসন আর ভয়হীন মানসিকতার যে দর্শন ইংল্যান্ড বিগত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা কাজের সময় এসে যেন নিজের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করল। শত সহস্র পরিকল্পনার পরও ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায় মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই।

বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল বিপুল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ১৫ বছর পর অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছিল দল ও তাদের সঙ্গে যাওয়া হাজারো সমর্থক। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইংল্যান্ড কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার সুসংগঠিত আক্রমণের সামনে।

পুরো সিরিজজুড়েই অস্ট্রেলিয়া ছিল নিয়ন্ত্রণে। মিচেল স্টার্ক খেলেন নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিরিজ। ৩১ উইকেটের সঙ্গে ব্যাট হাতেও হাঁকিয়েছেন দুটি অর্ধশতক। ১৯৯৪-৯৫ অ্যাশেজের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে এক সিরিজে ছয় শতাধিক রান করেন ট্রাভিস হেড।

স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ডের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ ছিল একদম নিখুঁত। বোল্যান্ড একাই নেন ২০ উইকেট। এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পুরো সিরিজে জশ হ্যাজেলউড খেলতে পারেননি, প্যাট কামিন্স ছিলেন মাত্র একটি টেস্টে এবং নাথান লায়ন অনুপস্থিত ছিলেন তিনটি ম্যাচে।

অস্ট্রেলিয়া যেখানে ইনজুরি সত্ত্বেও নিজেদের শক্তি ধরে রেখেছে, সেখানে ইংল্যান্ড ব্যর্থ হয়েছে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে। মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট জয়ের আগে, সিরিজের শুরুতে পার্থ টেস্টেই ইংল্যান্ড জয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছিল।

সেই ম্যাচে তারা চারজন মূল ফাস্ট বোলার খেলিয়েছিল – জোফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন, মার্ক উড ও ব্রেডন কার্স। কিন্তু মার্ক উড চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পর, দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড সেই সাহস দেখাতে পারেনি। ব্যাটিং শক্তিমত্তা বাড়াতে নেওয়া হয় উইল জ্যাক্সকে। এমনকি দলে থাকা একমাত্র স্পিনার শোয়েব বশিরকে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

ফলাফল হিসেবে জোফরা আর্চারের নেতৃত্বাধীন পেস আক্রমণের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার সহজেই রান যোগ করার সুযোগ পায়।

এটি যে একটি নেতিবাচক দর্শন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন অতিরিক্ত বোলার বোলিং আক্রমণে যে প্রভাব ফেলে, একজন অতিরিক্ত ব্যাটার তা কখনোই দিতে পারে না। হুমকির অভাবে প্রতিপক্ষ বড় রান তোলে, আর সেই চাপই পরবর্তীতে ব্যাটারদের কাঁধে এসে পড়ে।

তবে কেবল একজন বোলারের ঘাটতি কে দোষারোপ করলেই হয় না। সিরিজজুড়ে ইংলিশ ব্যাটারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এর পাশাপাশি ফিল্ডিং এও ছিল ব্যর্থতার ছাপ। ১৭টি ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠছে ইংলিশ খেলোয়াড়দের সদিচ্ছা নিয়েও।

সেনা (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া) দেশগুলোতে সিরিজ জেতা সফরকারী দলগুলোর জন্য বরাবরই কঠিনতম এক কাজ। আর যখন নিজেদেরর ব্যাটিংয়ের ওপর আস্থাহীন হয়ে বোলিং শক্তিও দুর্বল করা হয়, তখন সেই কঠিন কাজ যেন প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

 

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link