মূদ্রার দুই পিঠই দেখলেন বুলবুল

ইতিহাসের চেয়ে বড় কোনো শিক্ষক নেই। আর সেই শিক্ষা দেয় নির্মম, বিদ্রূপাত্মক। সেই শিক্ষা মূদ্রার দু’টো পিঠই দেখায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন এই সপ্তাহে ঠিক তেমনই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

এই সংকটের ওজন বুঝতে হলে ফিরে যেতে হয় ১৯৯৮ সালে। সে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের বা তৎকালীন বিসিসিবি বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনে ফেটে পড়েছিলেন দেশের ক্রিকেটাররা। মূল দাবি ছিল ঘরোয়া লিগ, বিশেষ করে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আয়োজন।

ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে সেই আন্দোলন ও ধর্মঘট ছিল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে খেলোয়াড়দের প্রথম বড় ধরনের সংগঠিত প্রতিবাদ। আকরাম খান, ফারুক আহমেদের মতো তারকারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই লড়াইয়ে। আর খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সেই আন্দোলনের সামনের সারিতে যাঁর মুখটি সবচেয়ে স্পষ্ট ছিল, তিনি আজকের বিসিবি সভাপতি—আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

সময় বদলেছে, কিন্তু ইতিহাস যেন এবার উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই আমিনুল ইসলামকেই দেখা গেল ব্যারিকেডের অন্য পাশে দাঁড়িয়ে। আধুনিক প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বিপিএল বয়কটের ডাক দিয়ে বিসিবির সামনে কার্যত আলটিমেটাম ছুড়ে দেন। দাবির কেন্দ্রে ছিলেন বিতর্কিত পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম—যাঁর পদত্যাগ ছাড়া মাঠে নামতে রাজি নন ক্রিকেটাররা। যে মানুষটি একদিন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, আজ তিনি নিজেই আন্দোলনের মুখে।

বিসিবির ভেতরে ‘প্রশাসন বনাম খেলোয়াড়’ সংস্কৃতির বিষবৃক্ষের জন্ম ফারুক-বুলবুলদের হাত ধরেই। তাঁদের ধরিয়ে দেওয়া ব্যাটনটাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল কিংবা মোহাম্মদ মিঠুনরা। এই জায়গায় আমিনুল ইসলামের অতীত তাঁকে আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ দিত। ভূমিকা রাখতে পারতেন ফারুক আহমেদও। সাবেক খেলোয়াড়-নেতা হিসেবে তাঁরা চাইলে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে শোকজ জারি করে খেলোয়াড়দের আস্থা ফেরাতে পারতেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, পুরো একটা দিন বিপিএলে খেলা আয়োজন করা যায়নি।

খেলাই যদি না থাকে, তাহলে বোর্ড পরিচালক বা ক্লাব সদস্য হওয়ার মর্যাদারও কোনো মূল্য নেই। এই বাস্তবতা স্বীকার করার বদলে বিসিবির ভেতরে এখন ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ খোঁজার ব্যস্ততা। বিসিবি যতই ব্যাখ্যা আর তত্ত্ব দাঁড় করাক না কেন, বাস্তবতা অনেক বেশি বিব্রতকর।

বুলবুল যদি শুরুতেই নাজমুল ইসলামের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতেন, কিংবা খেলোয়াড়দের দাবি যথাসময়ে মেনে নিতেন, তাহলে এই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতো না। যে মানুষগুলো একদিন ক্রিকেটারদের মর্যাদার জন্য লড়েছিলেন, আজ তারাই নিজেই প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রত্যাবর্তনের জালে আটকে পড়েছেন।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link