কেটে গেছে প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়। বাংলাদেশ ক্রিকেট তখন নিজেদের চরম শিখরে। পঞ্চপান্ডবের স্বর্ণালী যুগ, সেই সাথে ব্যাট-বল হাতে তরুণ তুর্কি সৌম্য সরকার কিংবা তাসকিন আহমেদদের পারফরম্যান্স। অ্যাডিলেডে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে সেদিন প্রথমবারের মতো কোন আইসিসি ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় টাইগাররা।
আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল তখন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে। সমীকরণ ছিল সোজাসাপ্টা – ইংলিশদের হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো আইসিসি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। একদিকে ইতিহাসের হাতছানি, অন্যদিকে ব্রিটিশ দেওয়াল।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল কিছুটা শ্লথ। ওপেনিংয়ে নেমে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের ব্যর্থতায় টপ অর্ডারের হাল ধরেছিলেন সৌম্য সরকার। পাঁচ চার ও এক ছক্কার মিশেলে ৫২ বলে ৪০ রানের এক ক্ল্যাসিক্যাল ইনিংস খেলে ড্রেসিং রুমে ফেরেন সৌম্য।

পরবর্তীতে রিয়াদ-মুশফিক জুটি যেন বাইশ গজে দেওয়াল তুলে দাঁড়াল। পঞ্চম উইকেটে তাদের ১৪১ রানের সেই মহাকাব্যিক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন বাংলাদেশকে লড়াইয়ের অক্সিজেন দেয়। ওই দিনই প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন রিয়াদ। তার সেই ঐতিহাসিক শতকের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৭৫ রানের এক চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভার শেষে ইংলিশদের সংগ্রহ ছিল এক উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান। বাংলাদেশের স্বপ্ন যখন ধূলিসাৎ হওয়ার উপক্রম ঠিক তখনই অ্যালেক্স হেলসকে আউট করে আবারও বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান স্বয়ং অধিনায়ক ম্যাশ।
তবুও জো রুট আর ইয়ান বেলের ব্যাটে ভর করে যখন ইংলিশরা জয়ের দিকে এগোচ্ছে ঠিক তখনই সবচেয়ে বড় বাজিমাত ঘটান রুবেল হোসেন। ব্যাক্তিগত ষষ্ঠ ওভারে একই সাথে ইয়ান বেল এবং ইয়ন মরগ্যানকে ফেরালে চাপের মুখে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

শেষ দশ ওভারে অঘটন এড়াতে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন তখনও ৯৫ রান। ইতোমধ্যেই জো রুটকে হারানো ইংলিশদের হাতে তখন কেবলই চার উইকেট। জস বাটলার এবং ক্রিস ওকসের ব্যাটে ভর করে লড়াই চালিয়ে যায় তারা। তাসকিনের দাপুটে বোলিংয়ে ইংলিশ উইকেটরক্ষক সাজঘরে ফিরলেও কোনোক্রমেই হার মানানো যাচ্ছিল না ক্রিস ওকসকে।
এক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের দরকার যখন ১৫ বলে ২০ রান, তাসকিনের ফাঁদে পড়ে আকাশে বল তুলে দেন ওকস। তবে সেই সহজ সুযোগ লুফে নিতে পারেননি তামিম। সবাই ভেবেই বসেছিল তামিম বোধহয় বলটার সাথে সাথে ম্যাচটাও ড্রপ করলো। বোধহয় চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিল লাল-সবুজদের কোয়ার্টার খেলার স্বপ্ন।
কিন্তু আশার বাণী হয়ে আসেন রুবেল । ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার মাত্র ১৬ রান, হাতে দুই উইকেট। ওভারের প্রথম বলে স্টুয়ার্ট ব্রডকে ফেরান। তৃতীয় বলে ভেঙে দেন জেমস এন্ডারসনের উইকেট। সেই সাথে ভেঙে যায় ইংলিশদের স্বপ্ন। ড্রেসিং রুম থেকে ভেসে আসে নাসের হুসাইনের গগনবিদারী চিৎকার, ‘দ্যা বাংলাদেশ টাইগারস হ্যাভ নকড দ্যা ইংল্যান্ড লায়ন্স আউট অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড কাপ’।











