ক্রিকেটে গতি, নিখুঁত ইয়র্কার আর ধোঁয়াশা তৈরি করা স্লোয়ার বল, এই তিন অস্ত্রের মিশেলেই গড়ে উঠেছেন জাসপ্রিত বুমরাহ নামের এক ভয়ংকর বোলার। বিশ্বের সেরা ব্যাটাররাও যার সামনে প্রায়ই হয়ে যান অসহায়। কিন্তু এই বুমরাহই নিজের অস্ত্রভাণ্ডারের সেরা অস্ত্র স্লোয়ারটা শিখেছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত সংযুক্ত আরব আমিতায়ের পেসার জাহুর খানের কাছ থেকে।
এমনটাই দাবি করেছেন জাহুর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বুমরাহর স্লোয়ার বলের উন্নত কৌশল শেখাতে নাকি তাঁরও ভূমিকা ছিল।
ঘটনাটা ২০১৯ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ চলাকালীন সময়ের। তখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলের নেট বোলার হিসেবে যুক্ত ছিলেন জাহুর খান। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্বে অনুশীলনের সময়ই নাকি বুমরাহর সঙ্গে তাঁর সেই আলোচনার সূত্রপাত।
জাহুরের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুধাবিতে এক ম্যাচে বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট এবং নাথান কোল্টার-নাইল বেশ রান খরচ করেছিলেন। প্রচণ্ড গরমে বল ধরা পর্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে অনুশীলনে নিজের স্লোয়ার বলের ভিন্ন কৌশল দেখান তিনি।

প্রথম বল ইয়র্কার, এরপর টানা কয়েকটি স্লোয়ার ডেলিভারি, কিন্তু অ্যাকশন একই, হাতের গতি একই। এই কৌশলেই নাকি জাহুর নজর কাড়েন দলের কোচিং স্টাফের।
তখন মুম্বাইয়ের বোলিং কোচ ছিলেন শেন বন্ড, আর প্রধান কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে। জাহুরের দাবি, তাঁর স্লোয়ার বাউন্সার দেখে বন্ড জানতে চান তিনি কি অফ-কাটার করছেন। কিন্তু জাহুর জানান, গ্রিপ একই, শুধু বল ছাড়ার মুহূর্তটাই আলাদা।
এরপরই নাকি শুরু হয় বুমরাহর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা। জাহুরের কথায়, একদিন অনুশীলনের সময় বুমরাহ নিজেই তাঁর কাছে এসে গ্রিপ দেখাতে বলেন।
সে বলল, ‘পাজি, তোমার গ্রিপটা দেখাও।‘ আমি দেখালাম কীভাবে একই অ্যাকশনে বল ছাড়তে হয়। তারপর সে বলল, ‘এটা তো একেবারে নেক্সট লেভেল,’এভাবেই স্মৃতিচারণ করেন জাহুর খান।

বিশ্ব ক্রিকেটে আজ বুমরাহ এক ভয়ংকর নাম। ডেথ ওভারে তাঁর স্লোয়ার বল আর ইয়র্কারের মিশেলে বহু ম্যাচ ঘুরে গেছে ভারতের দিকে। তাই জাহুর খানের এই দাবি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি করেছে নতুন আলোচনা।
অনেকের মতে, বুমরাহর মতো বোলারের দক্ষতা গড়ে উঠেছে বছরের পর বছর কঠোর অনুশীলন আর অভিজ্ঞতার ফলেই। তবে ক্রিকেটে ছোট্ট একটি টিপসও কখনও কখনও বদলে দিতে পারে বড় গল্পের গতিপথ। আর কথায় তো আছে, শেখার কোন শেষ নেই।











