স্রোতের গতিতে ছুটছে রান, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ একটু একটু করে হারিয়ে ফেলছে বাংলাদেশ। লাগাম টেনে ধরতে হবে, কাজটা করবেন কে? সেই সময়ে মঞ্চে আবির্ভাব ঘটলো রিশাদ হোসেন। যখন মনে হচ্ছিল নিউজিল্যান্ড বুঝি ২২০ রান অনায়াসে তুলে ফেলবে, বাধা হয়ে দাঁড়ালেন রিশাদ। বাংলাদেশকে ফেরালেন ম্যাচে।
অষ্টম ওভারে রিশাদ যখন আক্রমণে এলেন নিউজিল্যান্ড ততক্ষণে তুলে ফেলেছে ৭৪ রান। রিশাদ প্রথম ওভারে খরচা করলেন আট রান। যেন তাঁর আগমনে কোনো রকম প্রভাব পড়ল না। ডিন ক্লেভার আর ক্যাটেন ক্লার্ক তখন ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বাংলাদেশের উপর।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসেই ক্লার্ককে ফেরানোর বন্দোবস্ত করেছিলেন রিশাদ, তবে সাইফ হাসানের হাত ফসকে জীবন পেয়ে যান ক্লার্ক। হতাশার ছাপ চোখেমুখে, পরের দুই বলে ক্লেভারের কাছে চার হজম করতে হলো রিশাদকে। ততক্ষণে ফিফটিও চলে এসেছে ব্যাটারের। পরের বলেই মোক্ষম চালটা দিলেন রিশাদ, লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ফেরালেন ক্লেভারকে। অর্ধেক কাজ শেষ তখনই।
১২তম ওভারে রিশাদের শিকারি চোখ পড়ল ক্লার্কের দিকে। ফিফটি তুলে নিয়ে বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে উইকেটে দাঁড়িয়ে তিনি। চতুর্থ বলেই তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ বানিয়ে উপড়ে ফেললেন কাঁটাটা। দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে একপ্রকার ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এখানেই মূলত কিউইদের রানের জোয়ারকে ভাটায় পরিণত করেছেন রিশাদ।

শেষমেষ চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩২ রান খরচা করেছেন ঠিকই, তবে প্রতিপক্ষ যতটুকু ক্ষতি করা সম্ভব সেটা করে ফেলেছেন। যে নিউজিল্যান্ড অনায়াসে ২২০ রান জমা করতে পারত স্কোরবোর্ডে, সেখানে তুলতে পেরেছে ১৮২ রান। আর এই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার কারিগর রিশাদ হোসেন।











