আজমতউল্লাহ ওমরজাই, আফগান কাব্যের নব্য সারথি

আফগানদের রূপকথাময় অভিযানে অন্যতম সারথি হয়ে ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। গোটা বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের অন্যতম প্রাপ্তি ছিলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেললেন ১০৭ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস।   

এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক বিষ্ময় উপহার দিয়েছে আফগানিস্তান। আগের দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে যাদের প্রাপ্তি বলতে ছিল একটি মাত্র জয়, তাঁরা এবার নিজেদের রেখেছিল সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে। যদিও আগের দিন নিউজিল্যান্ডের কাছে শ্রীলঙ্কা বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় শেষ চারের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছে আফগানরা। 

তারপরও নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সময়টা আফগানিস্তান কাটিয়েছে এবারের বিশ্বকাপেই। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যে বিস্ময়ের শুরু তারা করেছিল, তা এক রূপকথায় রূপ নেয় শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তানকে হারানোর পর। আর এই রূপকথাময় অভিযানে আফগানিস্তানের অন্যতম সারথি হয়ে ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।

গোটা বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের অন্যতম প্রাপ্তি ছিলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেললেন ১০৭ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস।   

আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার টপ-অর্ডারদের এক প্রকারই গুঁড়িয়েই দিয়েছিলেন ওমরজাই। টানা দুই বলে ওয়ার্নার আর জশ ইংলিশকে ফিরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের দ্বারপ্রান্তে। যদিও ম্যাক্সওয়েল বীরত্বে শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিতে হয় আফগানিস্তানকে। 

অজিদের বিপক্ষে সে দুঃস্মৃতি ভুলে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আজ মাঠে নেমেছিল আফগানিস্তান। আর ম্যাচ বদলাতেই, বদলে গেল ওমরজাইয়ের খেলার ধরনও। আগের ম্যাচে যিনি পেসার হিসেবে প্রতিপক্ষের উপর ত্রাস ছড়িয়েছিলেন, এবার তিনি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ব্যাটার হিসেবে গড়লেন প্রতিরোধ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি  আফগাস্তিান। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪১ রান। তবে এরপর মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে আফগানরা। দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়েই হাল ধরে আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তাঁর ব্যাটেই দুইশো পেরিয়ে ২৪৪ রানের লড়াই করার মতো পুঁজি পায় আফগানিস্তান। 

প্রোটিয়া পেসারদের প্রতাপে আফগান মিডল অর্ডার যখন ছন্নছাড়া, দিশেহারা, দলের ঠিক সংকটাপন্ন সময়েই ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন ওমরজাই। শুরুতে রয়েশয়ে ব্যাটিং করে প্রতিরোধ গড়েছেন। এরপর দলের ইনিংসকে সমুন্নত করতে পাল্টা আক্রমণও করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আফগান এ অলরাউন্ডারকে।

ইব্রাহিম জদরানের পর দ্বিতীয় আফগান ব্যাটার হিসেবে ওমরজাইয়ের সামনে সুযোগ ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে শতক তুলে নেওয়ার। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষের ৩ বল আগে যখন স্ট্রাইকপ্রান্তে ছিলেন, তখন ৯৭ রানে ব্যাট করছিলেন ওমরজাই। কিন্তু কাগিসো রাবাদার করা সেই ৩ টি বল থেকে একটিও রান তুলতে না পারায় ৯৭ রানে অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ করতে হয় ওমরজাইকে। সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়লেও অবশ্য আফগানিস্তানকে এনে দেন লড়াই করার মতো ভিত্তি।

অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ওমরজাইয়ের জ্বলের ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এ নিয়ে আসরে তিনবার পঞ্চাশ পেরোলেন  আফগান এ অলরাউন্ডার।  এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস। এ ছাড়া ভারতের বিপক্ষেও পেরিয়েছিলেন পঞ্চাশ, খেলেছিলেন ৬২ রানের ইনিংস। 

প্রাপ্তি বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপে আফগানদের অর্জন অনেক। তবে আজমতউল্লাহ ওমরজাই-ই সম্ভবত এবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। অবশ্য পেসার হিসেবে পরিচিতি থাকা ওমরজাইকে পুরোদস্তুর ব্যাটার রূপে এবারই প্রথম চিনলো বিশ্ব।  

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...