পাগলাটে, ক্ষ্যাপা, বিধ্বংসী কিংবা আগ্রাসী এমন হাজারো বিশেষণ দিয়েও হয়ত ঋষাভ পান্তকে ব্যাখা করা সম্ভব নয়। ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রাচীন ও রাজকীয় সংস্করণকে যেন বানিয়ে ফেলেছেন মুড়ি মুড়কি। টেস্ট ক্রিকেটে ৬৬ ইনিংসে ৪৪.১৫ গড়ে রান ২৬৯৩। স্ট্রাইক রেটটা চোখ কপালে তোলার মত – ৭৫.৩৯। হবেই না কেন, ৩৮ টেস্টে চার মেরেছেন ২৯৬ টা, ছয় ৬৭ টা।
দুয়ারে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি। ক্রিকেটের অন্যতম দুই পরাশক্তির মহারণে ভারতের পক্ষে অন্যতম এক সেনানী পান্ত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ টেস্টে ৬২.৪০ গড়ে ৬২৪ রান করেছেন পান্ত, স্ট্রাইক রেট ৭২.১৪। ২০২১ সালের সিরিজটা নিশ্চয়ই মনে আছে।

চতুর্থ টেস্টে শেষ দিনে ভারতের দরকার ছিল ৩২৫ রান। ব্রিসবেনের বিখ্যাত গ্যাবা স্টেডিয়ামে কখনোই টেস্ট না হারা অস্ট্রেলিয়ার অহংকার সেদিন মাটিতে মিশিয়ে দেন পান্ত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো শুরু করে ভারত। ক্রিজে এসে প্রতিআক্রমণ শুরু পান্তের, ম্যাচ ও সিরিজ জেতানো ৮৯ রানের অপরাজিত সেই ঐতিহাসিক কাব্যিক ইনিংস আজও চোখে ভাসে দর্শকদের।
সেদিন পান্টের আক্রমণে সবচেয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল খুব সম্ভবত নাথান লিঁও। অফ স্পিনটা বরাবরই ভালো খেলেন পান্ত। তবে ৫০০ এর উপরে টেস্ট উইকেট পাওয়া লিঁও যেন তার প্রিয় শিকার। এখন অব্ধি ১২ ইনিংসে ৪৪.৫৮ গড়ে ২২৯ রান করেছে পান্ট তার বিরুদ্ধে। চার মেরেছেন ১৯ টা, ছয় ৭টা।

পান্তের কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষের ছত্রভঙ্গ করা যদি হয় ভারতের শক্তির জায়গা, তবে তার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার আছে লিঁওর ঘূর্ণি জাদু। ১২৯ টেস্টে ৫৩০ উইকেটের মালিক লিঁও ঘরের মাঠেই আছে ২৫৯ উইকেট। ভারতের বিপক্ষে নিয়েছেন ২৭ ম্যাচে ১২১ উইকেট, ইনিংস সেরা বোলিং ফিগার – ৮/৫০ ও আছে তার নামের পাশে।
ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তার পরিসংখ্যানটাও ঈর্ষণীয়। ১৫ টেস্টে ৬০ উইকেট শিকার করেছেন তিনি ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের বিপক্ষে। এছাড়া টেস্টে ঋষাভ পান্তকে সর্বোচ্চ বার (৫) আউট করেছেন লিঁও। তবে, অস্ট্রেলিয়াকে চোখ রাঙাছে অ্যাওয়েতে ঋষাভ পান্তের পারফরম্যান্সটাও। প্রায় ৪০ গড়ে রান ১৫৮৭ রান। পাঁচটা অর্ধশতকের সাথে আছে চারটা সেঞ্চুরিও।

সেটা অকপটেই স্বীকার করে নেন লিঁও। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি ঋষাভের মত চাঞ্চল্যকর প্লেয়ারের বিপক্ষে খেলেন যার দুনিয়ার সব ধরনের স্কিল আছে, তখন আপনার জন্য ভুল করার জায়গাটা একদমই কম। আমি জানি আমাকে হয়ত অনেক ছয় মারবে সে, তবে আমি ভয় পাচ্ছি না। চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আমি। আমার লক্ষ্য ওকে ক্রিজে আটকে রাখা, আর ওকে আউট করার সুযোগ সৃষ্টি করা।’
চোখ আপাতত অস্ট্রেলিয়া-ভারত মহারণে। দেখা যাক, শেষ অবধি কার পাল্লা ভারি হয়! মারকাটারি স্টাইলিশ ব্যাটিং নাকি স্পিনের ঘূর্ণি জাদু?










