৯.৫৫ গড়ের শাহিবজাদার ব্যাটে অপরাজিত ১৬২

প্রতাপের সাথে তেমনই এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখছেন যেন শাহিবজাদা ফারহান। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছেন পাকিস্তানি এই ব্যাটার।

ফেরার গল্প লিখতে হয় দাপটের সাথে। ঝড়ের ঝাপ্টায় লণ্ডভণ্ড করে দিতে হয় সব কিছু। প্রতাপের সাথে তেমনই এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখছেন যেন শাহিবজাদা ফারহান। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছেন পাকিস্তানি এই ব্যাটার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেকে আদর্শ প্রমাণের প্রচণ্ড ক্ষুধায় পেয়ে বসেছে তাকে।

শাহিবজাদা ফারহানের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। তবে ধারাবাহিকতা নেই। অবশ্য থাকবেই বা কি করে! নয় ম্যাচ খেলে মোটে ৮৫ রান করা একজন ব্যাটারকে কেউ কেন দলে চাইবে? মাত্র ৯৫.৫৫ স্ট্রাইকরেটে ৯.৫৫ গড়ে ব্যাট করা ব্যাটারকে দলের সাথে বয়ে বেড়ানোর কিছু তো নেই।

কিন্তু শাহিবজাদা ফারহান যেন নিজেকে ভেঙে গড়েছেন। পাকিস্তান জাতীয় দলের দরজায় প্রবল শক্তিতে কড়া নেড়ে যাচ্ছেন তিনি। এইতো সেদিন ১৬২ রানের এক দুর্বার ইনিংস খেলেছেন তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ঘরোয়া ক্রিকেটে।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে তিনি স্রেফ রানের উৎসব করেছেন, তাণ্ডবলীলা বললেও ভুল বলা হয় না। সব ধরণের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের হিসেবে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক এখন ফারহান। এমনকি পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে তিনিই প্রথম।

কোয়েট্টা রিজিওনের বিরুদ্ধে ব্যাটের প্রহারে বলকে স্রেফ তুলোধুনো করেছেন। ১১ খানা ছক্কা হাঁকিয়েছেন, সেই সাথে ১৪টি চারের মারও এসেছে তার ব্যাট থেকে। ৭২টি বল খেলেছেন অপরাজিত এই পুরো ইনিংসটিতে। ২২৫ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে গেছেন পুরোটা সময় জুড়ে।

তার মারা ১১টি ছক্কা পাকিস্তানের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে কামরান আকমাল ১২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন, সেদিন তিনি ১৫০ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন। কামরানের সেই ইনিংসটিই ছিল পাকিস্তানের মাটিতে এতদিন ধরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। সেই রেকর্ডকেও পেছনে ফেললেন শাহিবজাদা ফরহান।

তবে দমকা হাওয়ার মত হুট করেই এই তাণ্ডবের জন্ম দেননি ফারহান। লাগাতার ব্যাট হাতে আগ্রাসনের ছবি এঁকে যাচ্ছেন তিনি। শেষ চার টি-টোয়েন্টি ইনিংসে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাছাড়া আরও দুইটি হাফসেঞ্চুরির সহয়তায় তিনি ৪১৪ রান করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৯.৫৫ গড়ে রান করা ফারহানের শেষ চার ম্যাচের গড় ২০৭।

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি থেকে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মত ভারি নাম আপাতত বিশ্রামে রয়েছে। তাইতো বাকিরা এই সুযোগটা লুফে নিতে চাইছে। নিজেদের ব্যাটিং নৈপুন্যের সুদর্শন চিত্র এঁকে জায়গা করে নিতে চাইছে জাতীয় দলে। শাহিবজাদা ফারহানও এর ব্যতিক্রম নন। এখন দেখবার পালা রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি আর ভীষণ ধারাবাহিকতায় তার জন্যে জাতীয় দলের দরজা খুলে যায় কি-না।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link