অসীম সাহসের রূপকার ছিলেন তিনি

ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনাল আমাদের উপমহাদেশীয় আঁতে উপশমের মলম হিসেবে কাজে লেগেছে বটে। কিন্তু দিন শেষে সেটা তো একটা সিরিজই। সৌরভ ওমন উদযাপন করাতে মহিমা খানিকটা বেশি ছিল, ৩২৫ রান তাড়া করাতে আরো বেড়েছে। কিন্তু আসলে যেটা হয়েছে সেটা সেই ভিত তৈরি।

স্টিভ ওয়াহ একটা সময় পরে বেশ খানিকটা নেতিবাচক অবস্থানে থেকেই অস্ট্রেলিয়া দল ত্যাগ করে। তার আগের ইতিহাস বলে স্টিভ ওয়াহ’র টিকে থাকা অধিনায়ক হওয়ার যাত্রাটা সহজ ছিল না।

১৯৮৭ সালের টুকটাক বোলিং জানা অলরাউন্ডার ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপের জয়ী দলের অধিনায়ক। একে একটা বিশ্বকাপ ধরলে আপনি একটা অদৃশ্য অবিচার করবেন। সেই দলের অন্তত ৩ জন পরের দুটি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে ফ্রন্টলাইনে নিয়ে এসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নে পরিণত করেছে।

যদিও অস্ট্রেলিয়ার ১৯৯৯ বিশ্বকাপের দলে বা এর আগে পরে ঠিক ক্রিকেটার তুলে আনার ক্ষেত্রে যতটা না ওয়াহ ভূমিকা রেখেছেন তার চেয়ে বেশি পিলার তৈরিতে। একটা গাথুনি যেটার জোর ২০১৫ সাল পর্যন্তও ছিল। ক্রিকেট, অস্ট্রেলিয়া, অপরাজিত, চ্যাম্পিয়ন এসব শব্দ একটা সময় পর্যন্ত সম্পূরকই ছিল। এখনো আছে বৈকি।

দেখেন, ২০০৩ সালের সবচেয়ে কম নাম নেয়া হয় যার অ্যান্ডি বিকেল। পৃথিবীর অনেক ওয়ানডে দল তো বটেই এযুগের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন একজন ইউটিলিটি প্লেয়ারের একটা ভালো দাম থাকতো।

সৌরভ গাঙ্গুলি যেটা করেছেন সেটা হচ্ছে তিনি ব্যর্থ হয়ে বুঝিয়েছেন ঠিক কী নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। ২০০৩ সালে সেটা ছিল পাহাড়সম এক কাজ। ঠিক ফাইনাল ম্যাচেই টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে যাওয়া, এতো রানের প্রেসার, শচীন টেন্ডুলকারের আউট হয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে ফাইনাল জয়টা আসলে বেশিই প্রত্যাশার বিষয় ছিল।

ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনাল আমাদের উপমহাদেশীয় আঁতে উপশমের মলম হিসেবে কাজে লেগেছে বটে। কিন্তু দিন শেষে সেটা তো একটা সিরিজই। সৌরভ ওমন উদযাপন করাতে মহিমা খানিকটা বেশি ছিল, ৩২৫ রান তাড়া করাতে আরো বেড়েছে। কিন্তু আসলে যেটা হয়েছে সেটা সেই ভিত তৈরি।

যুবরাজ সিং যে ‘ইউভি’ হয়ে মিড উইকেটের ওপর রাজত্ব করবেন অর্ধ যুগ সেটা তখন বোঝা হয়ে গেছিলো। বীরেন্দ্র শেবাগ যে শচীনের সাথে শুধু ছায়া হয়ে থাকবেন না সেটাও।

আপনি দেখেন, ২০০৭ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগিন্দার শর্মার শেষ ওভারে অনেক হিসেবই এদিক সেদিক হতে পারতো। কিন্তু যুবরাজ যেভাবে স্টুয়ার্ট ব্রড আর ব্রেট লিকে সেই বিশ্বকাপে পেটালো সেই আত্মবিশ্বাস আরো বছর তিনেক আগে দাদা তাকে দিয়ে গেছে।

শেবাগ বাংলাদেশের সাথে ২০১১ সালে ১৭৫-এর মতো রান করেছিল, ভারত ৩৭০। এই শেবাগকে সৌরভ বলেছিল, ‘তুই তোর মতো খেলবি, টানা খেলবি। দল থেকে বাদ দেয়ার কোনো চিন্তা নেই।’ মাশরাফি বিন মুর্তজা যেটা সৌম্য-লিটনের ক্ষেত্রে করে এসেছে।

আরেকজন ছিলেন আনসাং হিরো, এই বুমরা, চাহালের আগে যিনি আনগ্ল্যামারাস ওয়েতে ইন্ডিয়ান বোলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন এক যুগ, জহির খান। ভারত কিন্তু ফল পেয়েছে, ২০০৭ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ বিশ্বকাপ, ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ৬ টা বছর ক্রিকেটের সীমিত ফরম্যাটে রাজত্ব প্রায়। এর পুরো আলোতে ছিলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি।

ধোনির জন্মদিন সাত জুলাই। আর সৌরভের আট জুলাই। এই সাত ও আটই জুলাই সমগ্র ভারতের ক্রিকেটে তো বটেই বিশ্ব ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বিশেষ।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...