প্রোটিয়াদের ‘চোকার্স’ তকমা থেকে বাঁচালেন ইয়ানসেন

সকল স্বপ্ন যখন চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কো ইয়ানসেন শেষ লড়াইটুকু করতে চাইলেন, করলেনও।

সকল স্বপ্ন যখন চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কো ইয়ানসেন শেষ লড়াইটুকু করতে চাইলেন, করলেনও। স্রোতের বিপরীতে তিনি তুললেন জলোচ্ছ্বাস। আর তাতেই বিপর্যয় কাটিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সেমিফাইনালের মঞ্চ। শিরোপার লড়াইয়ে পৌঁছানোর শেষধাপ। নিজেদের চিরায়ত ‘চোকার্স’ তকমার আরও একটি দৃষ্টান্ত প্রায় স্থাপন করে ফেলেছিল প্রোটিয়ারা। ৭৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্নের শেষ দেখে ফেলেছিল অনেকেই। কিন্তু তখনই বাইশ গজে হাজির হয়ে ইয়ানসেন বললেন, ‘হোল্ড মাই কাপ’।

শুরু হল দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া যোদ্ধার তাণ্ডব। তুলোধুনো চাইলেই বলা যায়, নিউজিল্যান্ডের বোলারদের আত্মবিশ্বাসের বারোটা বাজিয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ততক্ষণে স্থির করে ফেলেছিল ব্ল্যাকক্যাপস বোলাররা। কিন্তু ইয়ানসেনের ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা।

ট্রিস্টান স্টাবসকে একটা প্রান্তে রেখে দিয়ে ইয়ানসেন শুরু করলেন প্রলয়লীলা। স্টাবসের সাথে ৪৮ বলে ৭৩ রানের জুটির কল্যাণে ম্যাচে ফেরে প্রোটিয়ারা। স্টাবসে অবদান সেই জুটিতে মাত্র ২৪ বলে ২৯ রান। অন্যদিকে ইয়ানসেন আদায় করেছেন ২৪ বলে ৪০ রান। লোকি ফার্গুসনের টানা দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে দলীয় সংগ্রহ ১৮০ রানের গণ্ডি ছাড়ানোর সম্ভাবন সৃষ্টি করেছিলেন ইয়ানসেন।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ ওভারে তিনি খেলেছেন মোটে একটি বল। আরেকপ্রান্তের উইকেট হারানোর মিছিল স্রেফ দেখে গেছেন তিনি। শেষ অবধি অপরাজিত থেকেছেন ৩০ বলে ৫৫ রান করে। এই ইনিংসটি দিনশেষ বনে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার লাইফলাইন। বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে পাঁচ খানা ছক্কা আর দুই খানা চারের ১৮৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি বিবেচিত হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link