পিণ্ডিও না, ঢাকাও না- নাহিদ রানার চাই পাকিস্তান

পিন্ডি না ঢাকা? নাহিদ রানার জন্য পাকিস্তান হলেই হয়। কেননা মাঠ যাই হোক- পাকিস্তানকে পেলেই আগুনের গোলা ছুড়তে শুরু করেন তিনি। তাতে ভষ্ম প্রতিবারই ভষ্ম হয়েছে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার। বাইশ গজে নাহিদের গতির তাণ্ডবের সামনে ভীষণ অসহায় পাকিস্তানের ব্যাটাররা।

বলের রঙও তার কাছে প্রাধান্য পায় না। লাল হোক কিংবা সাদা তিনি ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টির ব্রত নিয়েই নামেন মাঠে। যা তিনি আরেকবার মঞ্চস্থ করলেন মিরপুরের বাইশ গজে। রান হচ্ছিল না দ্রুতগতিতে, উইকেট  পতনেরও ছিল না কোন হদিস। কিন্তু দশম ওভারে নাহিদের হাতে বল আসার পরই বদলে গেলে সকল দৃশ্যপট।

নাহিদের প্রথম ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন শাহিবজাদা ফারহান। তার আর শেষ রক্ষা হয়নি। সেই ওভারের শেষ বলে শাহিবজাদা ফারহানকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে নিজের উইকেট শিকারের যাত্রা শুরু করেন নাহিদ রানা দ্য স্পিডস্টার। তার গতির নির্মম বাস্তবতা সহ্য করতে হয়েছে মাজ সাদাকাতের মত তরুণ ব্যাটারকেও।

তার আগে শামিল হুসেইন নাহিদের গতি সামলাতে গিয়ে খেয়েছেন হিমশিম। ওয়ানডেতে মিডল ওভারে উইকেট নেবেন কে? এমন একটা প্রশ্ন উঠেছিল সাম্প্রতিক সময়ে। সেই প্রশ্নের জবাব কি দৃপ্ততার সাথে দিয়ে দিলেন নাহিদ রানা। প্রথম পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই বোলিং এসে তিনি ভেঙে দেন পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। ষোলকলা পূর্ণ করেন মোহাম্মাদ রিজওয়ানের উইকেট তুলে নিয়ে।

ইনিংসের দশম ওভারে এসে ষোলতম ওভারের মধ্যে চারখানা ওভার করেছেন নাহিদ রানা। প্রতিটা ওভারেই তার ঝুলিতে একটি করে উইকেট যুক্ত হয়েছে। তার গতিতে পাকিস্তানি ব্যাটারদের চক্ষু ছানাবড়া। তাতে ৬৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তানি ব্যাটাররা।

নাহিদ আর কোন প্রকার কালক্ষেপণ না করেই খাঁদে ঠেলে দিলেন পাকিস্তানকে। নিজে তুলে নিলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার। ৬৯ রানেই নেই পাকিস্তানের পাঁচ ব্যাটার। আর সেই পাঁচ উইকেটের পাচটাই গিয়েছে নাহিদের পকেটে। পাকিস্তানকে সামনে পেলেই এমন বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন নাহিদ রানা। পেসারদের স্বর্গরাজ্যে বার্তা পৌছান নাহিদ- গতি ঘূর্ণিঝড় বাংলার কাঁদামাটিতেও জন্মায়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link