রোনালদোর অন্তিম আখ্যান

যখন সমসাময়িকরা বুট জোড়া তুলে রেখে ধারাভাষ্য কক্ষের আরামদায়ক চেয়ারে আসীন, তখনো পর্তুগিজ এই মহানায়ক তার ক্যারিয়ারের শেষ অঙ্কে তুলি ছড়াচ্ছেন তিনটি ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে।

সময়ের তপ্ত বালুকারাশিতে অনেক কিংবদন্তির পদচিহ্ন মুছে গেলেও ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন এক ক্লান্তিহীন অভিযাত্রী। যখন সমসাময়িকরা বুট জোড়া তুলে রেখে ধারাভাষ্য কক্ষের আরামদায়ক চেয়ারে আসীন, তখনো পর্তুগিজ এই মহানায়ক তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ অঙ্কে তুলি ছড়াচ্ছেন তিনটি ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে।

ফুটবল ইতিহাসের সব ঐশ্বর্য যার পায়ে লুটিয়েছে, তাঁর রাজমুকুটে কেবল একটি পালকই নেই – বিশ্বকাপ। ২০০৬ থেকে ২০২২, দীর্ঘ পাঁচ আসরে অনেক রক্ত-ঘাম ঝরালেওসোনালি ট্রফিটি রোনালদোর জন্য আজও এক অধরা মরীচিকা।

লিওনেল মেসি সেই চূড়ায় আরোহণ করে বিতর্ক অনেকটা থামিয়ে দিলেও, রোনালদো হাল ছাড়েননি। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে তাঁর শেষ অভিযান।

তাঁর আরেকটি লক্ষ্য এখন এখন সহস্র গোল পূর্ণ করা।  গত ১৯ এপ্রিল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আল নাসরের হয়ে জালের দেখা পেয়ে তিনি ক্যারিয়ারের ৯৬৯ তম মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ১০০০ গোলের সেই অভূতপূর্ব গন্তব্য এখন দৃষ্টিসীমায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি (৯০৫ গোল) যেখানে নির্ভার ফুটবল আর সতীর্থদের সুযোগ করে দিতেই বেশি আনন্দ পান, রোনালদোর গোলক্ষুধা সেখানে আজও এক চিরযৌবনা আগ্নেয়গিরি।

​রোনালদোর শেষ স্বপ্নটি যতটা না গাণিতিক, তার চেয়েও বেশি আবেগপ্রসূত। নিজের ছেলের সাথে একই দলে খেলা! আগামী জুনে ১৬ বছরে পা দিতে যাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকে আল নাসরের মূল দলে প্রমোশন দেওয়ার গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। পেশাদার ফুটবলের সবুজ গালিচায় বাবা আর ছেলের একসাথে দৌড়ানোর দৃশ্যটি হতে পারে এই শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া-চিত্রনাট্য।

বার্ধক্য যার কাছে হার মেনেছে, সেই মহাতারকা ২০২৭ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয়ে আজও মাঠ কাঁপাচ্ছেন। ২০২৬ এর বিশ্বকাপই হয়তো হবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ সূর্যাস্ত। তবে সেই সূর্যাস্তের আগে তিনি কি পারবেন তাঁর তিন অপূর্ণ স্বপ্নকে পূর্ণতার রঙে রাঙাতে? উত্তরটা তোলা থাকল ফুটবলের চিরকালীন অনিশ্চয়তার কাছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link