সম্প্রচার শঙ্কায় উইন্ডিজ সিরিজ

তাদের নিজেদের ভেতরকার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে এবার টিভিতে সিরিজ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে ক্রিকেট ভক্তরা। ব্যবসায়িক ঝামেলার কারণে টিএসএমের কাছ থেকে ফিড কিনতে কোনো চ্যানেলই এখন পর্যন্ত রাজি হয়নি।

বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরু হতে বাকি মাত্র পাঁচদিন। অ্যান্টিগায় ১৬ জুলাই সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে দু’দল। কিন্তু এখনও অনিশ্চিত টেলিভিশনের পর্দায় আদৌ সম্প্রচারিত হবে কি-না এই সিরিজটি। বাংলাদেশী সমর্থকরা টিভির পর্দায় খেলা উপভোগ করতে পারবেন না কিনা সে নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিতব্য এই সিরিজে সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিং (টিএসএম)। মূলত তাঁদের কাছ থেকেই ফিড কিনে দেশীয় চ্যানেলগুলো খেলা সম্প্রচার করে থাকে। তবে তাদের নিজেদের ভেতরকার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে এবার টিভিতে সিরিজ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে ক্রিকেট ভক্তরা। ব্যবসায়িক ঝামেলার কারণে টিএসএমের কাছ থেকে ফিড কিনতে কোনো চ্যানেলই এখন পর্যন্ত রাজি হয়নি।

দু’টি টিভি চ্যানেল ও একাধিক এজেন্সি মিলে সাধারণত বাংলাদেশের সিরিজগুলো সম্প্রচারের সব কাজ করে। তবে এবার কনসোর্টিয়ামের সাথে টিএসএমের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন – এমন শঙ্কা রয়েছে।

একটি টিভি চ্যানেলের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সিরিজটি ব্ল্যাকআউট হবার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এখনও টিএসএমের সাথে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি। তবে আমাদের সাথে টিএসএমের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কনসোর্টিয়াম সদস্যদের সাথে কিছু ইস্যু আছে। অভ্যন্তরীণ কিছু ইস্যুর কারণে আমরা সরাসরি ফিড কিনছি না।’

গাজী গ্রুপের (গাজী গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান জিটিভি) নির্বাহী পরিচালক সালাহউদ্দিন চৌধুরী স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২০ থেকেই আমরা সরাসরি স্বত্ব কেনা বন্ধ করেছি। মূলত কনসোর্টিয়াম স্বত্ব কিনে এবং পরবর্তীতে ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য আমাদের কাছ থেকে এয়ারটাইম ক্রয় করে।’

সালাহউদ্দিন অবশ্য বলেছেন যদি শেষ মূহুর্তেও কোনো চুক্তি হয়, সেক্ষেত্রেও জিটিভি খেলা সম্প্রচার করতে প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় প্রস্তুত। যদি কোনো ফিড কিনে এবং সম্প্রচার করতে চায় সেক্ষেত্রে আমরা খুব দ্রুত সময়ে সরাসরি কভারেজ দিতে পারবো।’

গাজী গ্রুপের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও সালাহউদ্দিন চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এদিকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে এ বিষয়ে জানানো হলেও তিনি এই ব্যাপারে নিজেকে জড়াতে চাননি। যার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ সম্প্রচার নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।

২০২১ সালে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসে অস্ট্রেলিয়া। সেসময় অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতভেদ হওয়ার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজটি সম্প্রচারিত হয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট ফ্যান্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে রোহান খান বলেন, ‘এটা খুবই হতাশাজনক যে আমরা এখনও জানিনা এই সিরিজটি আমরা টিভিতে দেখতে পারবো কি-না। আমাদের ক্রিকেট বোর্ড ধনী বোর্ডগুলোর একটি হলেও তারা এখনও এর কোনো সমাধান করতে পারেনি। এটা সত্যি দু:খজনক।’

এ ব্যাপারে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু জানিয়েছেন, তারা একটা সমাধানের চেষ্টা করছে্ন। এখন আদৌ এই সমস্যার সমাধান হবে কি না – তা জানতে সময়ের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

জানিয়ে রাখা ভাল, ১৬ জুন অ্যান্টিগায় সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে দু’দল। এরপর ২৪ জুন সেন্ট লুসিয়ায় দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে সাকিব-তামিমরা। টেস্ট সিরিজ শেষে ২ ও ৩ জুলাই ডমিনিকে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এরপর ৭ জুলাই গায়ানায় তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে দুই দল। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে একই ভেন্যুতে যথাক্রমে ১০, ১৩ ও ১৬ জুলাই তিনটি ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলবে এই দু’দল।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...