লড়াই করার শক্তি

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হয়েও টাফ না খেলে এত দীর্ঘদিন ঠাণ্ডা মাথায় খেলে যাওয়া এই ভদ্রলোক বিশ্বের যে কোন কোণে, যে কোন ক্ষেত্রে লড়ে যাওয়া যে কারোর প্রতিনিধিস্থানীয় ছিলেন। তিনিই বলতে পারেন, ‘If I have to make a tackle then I have already made a mistake.’ তার থেকেই আজও আমার শিক্ষা পাওয়া ‘লড়ে যাও, লিখতে থাকো’।তার কাছ থেকেই শেখা ‘Attack wins you game, but defense wins you titles’ আর ‘Football is all about respecting your opponents.’ এই শ্রদ্ধাহীন অসময়ে এই শিক্ষাগুলো অর্জন ছাড়া আর কি?

রোজ রোজ চোখের সামনে নিজের নির্ভেজাল গোবেচারা লেখাগুলোর ‘ঝাড় খাওয়া’ দেখতে দেখতে সুশান্ত সিং রাজপুতকে খুব মনে পড়ে, তাঁর হতাশাগুলোকে বড্ড বেশি নিজের মনে হয়। লেখাটেখার ইচ্ছেগুলো কোন অদৃশ্য ব্লটিং পেপার শুষে নেয়। মনে হয়, অনেক হল, আর না। একই কাজ রোজ রোজ করা আর একই রকম হতাশার গ্রাসে চলে যাওয়া। এবার কুইট বলে ‘মন চল নিজ নিকেতনে’। চলো, লেট মি গো।

আর ঠিক তখনই ৫৩-তে পা দেওয়া এই ইতালিয়ান সেন্টার ব্যাক ভদ্রলোক চলে আসেন চোখের সামনে, বুকের ভিতরে। যার আদরের ডাকনাম ছিল ‘এল ক্যাপিতানো। দীর্ঘ সময় ধরে ইটালি ও এসি মিলানের অধিনায়ক থাকার জন্যই তার অর্জন ছিল এই নাম। তিনি পাওলো মালদিনি।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে মাত্র ১৬ বছর বয়সে এসি মিলানের হয়ে বদলি হিসেবে উদিনেসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সিরি ‘এ’-তে অভিষেক ঘটে এই ভদ্রলোকের। ঐ মৌসুমে ঐ একটি ম্যাচেই খেলা। তারপরের বছর থেকে দলে নিয়মিত খেলা। টানা ২৫ বছর ঐ ক্লাবের হয়েই সিরি ‘এ’-তে ৬৪৭টি ম্যাচে খেলে যাওয়া, রোজ রোজ এক একই কাজ একই ভাবে করে যাওয়া, আর ৪১ বছর বয়সে অবসরে চলে যাওয়া ২০০৯ সালে।

তারই মধ্যে সিরি ‘এ’ জয় ৭ বার (১৯৮৭-৮৮, ১৯৯১-৯২, ১৯৯২-৯৩, ১৯৯৩-৯৪, ১৯৯৫-৯৬, ১৯৯৮-৯৯ ও ২০০৩-০৪), ইতালিয়ান কাপ জেতা একবার (২০০২-০৩), ইতালিয়ান সুপার কাপ জেতা ৫ বার (১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৩, ১৯৯৪ ও ২০০৪),  উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় ৫ বার (১৯৮৮-৮৯, ১৯৮৯-৯০, ১৯৯৩-৯৪, ২০০২-০৩ ও ২০০৬-০৭), উয়েফা সুপার কাপ জয় পাঁচ বার (১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯৪, ২০০৩ ও ২০০৭) আর  ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ / ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয় তিন বার (১৯৮৯, ১৯৯০ ও ২০০৭)।

অনূর্ধ্ব ২১ ইতালির হয়ে ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে ১২টি ম্যাচ খেলে পাঁচটি গোল দেন তিনি। আর  ইতালির জাতীয় দলের হয়ে (১৯৮৮ – ২০০২) ফিফা বিশ্বকাপে তৃতীয় ও রানার আপ হওয়া যথাক্রমে ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালে এবং উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ রানার আপ হওয়া ২০০০ সালে। এছাড়াও ১৫টি ব্যক্তিগত খেতাব ও অর্ডার অফ মেরিট অফ ইতালিয়ানয রিপাবলিক পান দুবার –  ২০০০ সালে অফিসার, চতুর্থ শ্রেণী ও ১৯৯১ সালে নাইট, পঞ্চম শ্রেণী।

এছাড়াও চারটি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল তাঁর ঝুলিতে সিরি ‘এ’ তে (৬৪৭ ম্যাচ, ২৯ গোল), উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (১৬৮ ম্যাচ), এসি মিলানের হয়ে (৯০২ ম্যাচ) আর ইতালি জাতীয় দলের হয়ে (১২৬ ম্যাচ, ৭ গোল)। ২০০৯ সালে এই শেষ রেকর্ডটি ফ্যাবিও ক্যানাভারো ভেঙে দেন।

ফ্রাংকো বারেসি, আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা ও মাউরো টাসোট্টির সঙ্গে এই ভদ্রলোকের গড়া রক্ষণভাগকে এসি মিলান তথা ইটালির সর্বকালের সেরা রক্ষণ বলা হয়। ১৯৯৭ সালে ফ্রাংকো বারোসির অবসরের পর তিনি আলেসান্দ্রো নেস্তার সাথেও শক্তিশালী জ়ুটি হয়ে ছিলেন ইতালির রক্ষণে। ২০০৯ সালে তার অবসরের পর এসি মিলান ক্লাব কর্তৃপক্ষ তিন নম্বর জার্সিটি তাঁর ছেলে ব্যতীত আর কাউকে না দেবার সিদ্ধান্ত নেয়।

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হয়েও টাফ না খেলে এত দীর্ঘদিন ঠাণ্ডা মাথায় খেলে যাওয়া এই ভদ্রলোক বিশ্বের যে কোন কোণে, যে কোন ক্ষেত্রে লড়ে যাওয়া যে কারোর প্রতিনিধিস্থানীয় ছিলেন। তিনিই বলতে পারেন, ‘If I have to make a tackle then I have already made a mistake.’ তার থেকেই আজও আমার শিক্ষা পাওয়া ‘লড়ে যাও, লিখতে থাকো’।তার কাছ থেকেই শেখা ‘Attack wins you game, but defense wins you titles’ আর ‘Football is all about respecting your opponents.’ এই শ্রদ্ধাহীন অসময়ে এই শিক্ষাগুলো অর্জন ছাড়া আর কি?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...