টেস্টের বর্ষসেরা ইনিংস

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে হয়েছিল মোটে ২২ টি টেস্ট। কোভিড পরিস্থিতিতে রুখে দাঁড়িয়ে ২০২১ সালে সেখানে হয়েছে ৪৩ টি টেস্ট। ইংল্যান্ড ও ভারত সর্বোচ্চ যথাক্রমে ১৫ টি ও ১৪ টি টেস্ট খেলেছে। এর বাইরে বাকি দলগুলোও কমপক্ষে পাঁচটা টেস্ট করেছে।

জয়ের হারে সবচেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান দল। নয়টি ম্যাচ খেলে তাঁরা জিতেছে এর সাতটিতেই। অন্যদিকে ভারত, ১৪ টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। মানে জয়ের হার ৫০ শতাংশ। তবে, জয় পরাজয় ছাপিয়ে বছর জুড়ে সাদা পোশাকে দাপট দেখিয়েছেন ব্যাটসম্যান। ব্যাটসম্যানদের সেরা সব পারফরম্যান্স নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • লোকেশ রাহুল (ভারত): ১২৯, লর্ডস টেস্ট

পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটা ড্র হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে লর্ডসে ভারত মনে রাখার মত পারফরম্যান্স করে দেখায়। প্রথম ইনিংসে লিড না থাকার পরও প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারায় ভারত।

প্রথম ইনিংসে দারুণ এক ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। ১২৯ রান করার পাশাপাশি রোহিত শর্মার সাথে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১২৬ রান। রোহিত শর্মা করেন ৮২ রান।

  • কাইল মেয়ার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): অপরাজিত ২১০, চট্টগ্রাম টেস্ট 

নিজের অভিষেক ম্যাচেই দলের হয়ে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইল মেয়ার্স। চট্টগ্রামের টার্নিং পিচে চতুর্থ ইনিংসে ২১০ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেয়ার্স।

বাংলাদেশের দেওয়া ৩৯৫ রানের টার্গেট উতরে যায় ক্যারিবিয়ানরা মেয়ার্সের ব্যাটে ভর করে। মেয়ার্সের এই অপরাজিত অভিষেক দ্বিশতক তাঁকে বানিয়েছে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে দ্বিশতক হাঁকানো ষষ্ঠ খেলোয়াড়।

  • মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (বাংলাদেশ): অপরাজিত ১৫০, হারারে টেস্ট 

নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট টা বর্ণিল করে রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বছরের মাঝামাঝি খেলা টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অনবদ্য ১৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।

যা দলকে প্রথম ইনিংসে ৪৬৮ রান সংগ্রহ করতে সহয়তা করে। দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করতে নামতে হয়নি রিয়াদকে। তবুও বাংলাদেশ ২২০ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ।

  • জো রুট (ইংল্যান্ড): ২১৮, চেন্নাই টেস্ট

বছর জুড়েই টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ ফর্মে থেকেছেন জো রুট। তারই ধারাবাহিকতায় অন্য সব প্রতিপক্ষের মতোই ভারতের বিপক্ষেও রানের দেখা পেয়েছেন রুট।

ভারতের চেন্নাইয়ে টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে রুটের ২১৮ রানের উপর ভর করে ভারতকে ২২৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। তাছাড়া এই বছরের টেস্টে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন জো রুট। যদিও তাঁর নেতৃত্বে দলের ব্যর্থতার পাল্লাটা ভারী।

  • ঋষাভ পান্ত (ভারত): ৮৯, ব্রিসবেন টেস্ট 

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অবস্থিত গ্যাবা ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন অস্ট্রেলিয়ার দূর্গ। দীর্ঘ ৩২ বছরে সেখানে তাদেরকে কেউ হারাতে পারেনি। তবে ভারত তা করে দেখিয়েছে। ভারতের সেই ইতিহাস গড়া জয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী ইনিংস খেলেছিলেন ভারতের উইকেট রক্ষক ব্যাটার ঋষাভ পান্ত।

৮৯ রান করে দলের জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন ঋষাভ। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩২৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টেস্টের পঞ্চম দিনে ঋষাভ পান্তের সেই ইনিংসটা নিঃসন্দেহে এই বছরের সেরা ইনিংস।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link